Mohammed A. Jabed

বুধবার, ২৫ মে, ২০১১

বৃস্টির মুখর একটা দিন


প্রতিদিন সন্ধ্যা হয়, আর এই ভেবে শুরু করি সন্ধ্যা, ''আজকে আর রাত জাগব না, অনেক তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ব, দুইটার বেশি জাগব না। গতকাল সন্ধ্যা এইভাবেই শুরু হল। টিউশনি সেরে যখন হলে আসলাম, সন্ধ্যা গড়িয়ে তখন রাত দশটা। খাওয়া দাওয়া শেষে যখন রুমে আসলাম, বাহিরে তখন শুরু হয়েছে আরেক আয়জন, কাল বৈশাখীর। অন্যের ছেলেকে মানুষ করতে করতে ক্লান্ত শরীর নিয়ে গা এলিয়ে দিলাম বিছানায়। বাহিরে অঝর ধারায় বৃস্টি, সবাই যখন জানালায় বসে বৃস্টি দেখতেছে, আমি তখন হাত পা এলিয়ে দিয়ে ঘুম। রাত ১২টা। সবার দিন যখন শেষ, আমি তখন ঘুম থেকে উঠে শুরু করলাম, আমার রাত্রি নামের দিন। কিছুক্ষন পরার ভান করলাম, নিজেকে সান্তনা দেওয়ার জন্য, হ্যা আজকে আমি পড়তে বসেছি। যদিও আমিতো নিজেই জানি, আমি কেন পড়তে বসলাম, আমি কি পড়লাম। তারাহুরা করে পড়া শেষ করে, নিয়ে বসলাম, আমার সবছেয়ে কাছের বস্তুটা নিয়ে। আমার ল্যাপটপ। মাঝে মাঝে আমি নিজেই ভাবি, এই পৃথিবীতে কি এমন আর কোন বস্তু আছে, যেটার সাথে মানুষ সানন্দে এতটা সময় কাটিয়ে দিতে পারে। ধন্যবাদ বিজ্ঞানকে। সারারাত সবার সাথে আড়ড়া দিয়ে ইংলিশ সিনেমা নিয়ে বসলাম এমন এক সময় যখন রাত জাগা সিনেমা পাগল মানুষ গুলো পর্যন্ত ঘুমিয়ে পড়ে। আকাশ ততক্ষনে শান্ত। সিনেমা শেষ হতে হতে শুরু হয়ে গেল পেঠে ছু ছু... তৈরী হয়ে বের হলাম, আকাশে সুর্য উকি দিচ্ছে। অনেকে দেখলাম ঘুম সেরে কাজে যোগ দিচ্ছে। আজকে প্রাতরাশ ঠিক সময়ে করলাম।
ঘুমালাম, অনেক সময়। সকালে ঘুম ভাঙল বৃস্টির শব্দে, বেলা তখন ১২টা বেজে ৩০মিনিট। বারান্দায় গিয়ে দেখি সবাই মহা আনন্দে বৃস্টি দেখতেছে। পুকুর ঘাটে যুগলরা পানিতে পা নামিয়ে বৃস্টিতে ভিজতেছে, অনেকে দল বেধে নেমে পড়েছে ফুটবল নিয়ে, তবে মাঠে নাহ, পুকুরে, অনেকে মনের আনন্দে হাটাহাটি করতেছে এদিক সেদিক। মনে হল, বৃস্টিটা সর্গীয় কিছু একটা। আর তখনি বৃস্টিটাকে আমার কাছে মনে হল, এক বড় উপদ্রব বলে। আমার যে ক্ষিদে লেগে গেল, বৃস্টির জন্য যেতে পারতেছিনা।
আবার বসলাম কম্পিউটার নিয়ে। বৃস্টি থামল, খুশিমনে খেতে গেলাম। এইভাবেই পার হয়ে গেল একটা বৃস্টিমুখর সন্ধা,রাত,সকাল র দুপুর..................

২টি মন্তব্য: