আজকে একটা মুভি দেখলাম। বলতে পারেন অনেকদিন পর। অনেক মুভি দেখতাম, এখন আস্তে আস্তে নিজেকে ঘুম আর মুভি চাড়া অন্যকিছুতেও নিজেকে ব্যাস্ত রাখার চেষ্টা করছি।
গতকাল বাড়ি আসলাম। দীর্ঘ ৪ ঘন্টা ট্রেনের জন্য অপেক্ষা এবং ১০ ঘন্টা দীর্ঘ ট্রেন ভ্রমন শেষে। দেরির কারণও আছে অবশ্য। ট্রেন দুর্ঘটনা, সাথে আমাদের সহযাত্রি মন্ত্রি সাহেবের আনুস্টানিকতা। অন্যসবকিছুর মত, সাধারন যাত্রির দু-ধ্বনি শোনে মন্ত্রি সাহেব যখন সম্ভি ফিরে পেল, তখন রাত তিনটা।
আজকে আমার বিষয় অবশ্য মুভি। আজকের মুভির নাম ‘Invictus’ . আমার দেখা কত গুলা সেরা আর মনে দাগ কাটা মুভির মধ্যে একটা হয়ে গেল এই মুভি। মুভিটি তেমন কোন বিশেষ কিছুকে নিয়ে না। অনেক পরিচিত নেলসন ম্যান্ডেলাকে নিয়ে। সত্য ঘটনাকে ভিত্তি করে। মুভিটি দেখে আমার অনেক কিছু ধারণা পরিবর্তন হল।অনেক কিছুর জন্য হাহাকার অনুভূত হল, সাথে একজন নেলসন ম্যান্ডেলার অভাব অনুভুত করলাম নিজের দেশের জন্য।
মুভিটি দেখেছি, আর সত্যি কথা, পুরাটা সময় আমি কেদেছি, কেন জানি না। মুভিটি কোন দুঃখকে ভিত্তি করে নাহ, তারপর আমর অনেক কান্না পেয়েছে। এই কান্না হয়তবা অনেক দিনের , অনেকের নিরাশার কথা, আশা হত হাওয়ার কথা মনে পরেছে বলে। মুভিটি দেখেছি, র নিজেকে ভেবেছি একটা দেশের সাধারন নাগরিক হিসাবে, কিন্তু আমি যখন আমার কোন নেতা কল্পনা করতে পারিনি, তখন এ আমার খারাপ লেগেছে, তখন এ মনে পরে গেছে, আমর মত ১৫ কোটি হতভাগার কথা। তাই হয়ত কান্না পেয়েছে।
আমি জানি না, সবাই কি ভাবে, আমি মনে করতাম, ম্যান্ডেলা শুধুমাত্র শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে লড়াইকরে আজকের দক্ষিন আফ্রিকা প্রতিস্টা করেছে। কিন্তু আজকে মনে হল, আমার জানার মধ্যে অনেক কমতি আছে। একটা ছেলে জম্ম দিলে হয় না, ছেলে বোঝা না হয়ে সম্পদ তখনই হয় যখন তাকে মানুষ করা যাই। একটা দেশ জম্ম দিলে হয় না, দেশটাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অনেক বড় অর্জন। অনেক দেশ জম্ম নিয়েছে, অনেক জাতির পিতা পৃথিবী দেখেছে, কিন্তু আজকে বুঝলাম, তাদের মাঝে মেন্ডেলা অথবা গান্ধী কেন সার্বজনীন।
আজকে আমার ইচ্ছে করেছে, অই মুভির পত্যেক তা dialog যদি আমি ফেইসবুক এর স্ট্যাটাস দিতে পারতাম, আমার দেশের সন নেতাকে বসিয়ে যদি আমি এই মুভিটা দেখাতে পারতাম, আর যদি বলতে পারতাম, দেখ...... নেতা কাকে বলে, পল্টনে ভাষন দিলে নেতা হওয়া যাইনা, নেতা হতে হয় নাহ, জনগন এ নেতা বানিয়ে নে...
মেন্ডালা এমন এক সময় সে দেশের প্রেসিডেন্ট হল, যখন, তার চিন্তার সাথে কারও কোন কিছু মিলত না। দেশের এক বিরাট অংশ শেতাঙ্গ, যারা সদ্য ক্ষমতা হারানো কস্ট নিয়ে সুযোগের অপেক্ষায় পাল্টা আক্রমনের, আরেকটা অংশ কাল লোক। যারা অনেক বছর ধরে শোষন আর নিপিড়নের মাঝে অপেক্ষা করেছে, এমন এক সকালের যেন তাদের মুক্তি মিলে আর প্রতিশোধ নিতে পারে। একেক অঞ্চলের ভাষা ভিন্ন, একেক অঞ্চলের সাংকৃতির কোন মিল নেই। ম্যান্ডেলাকে কালোদের সাথে লডতে হয়েছে, তাদেরকে ক্ষমা, সহবস্তান আর সামনে তাকানোর জন্য। শ্বেতাঙ্গদের সাথে লড়তে হয়েছে, তাদের কাছে প্রমান করার জন্য যে তার লড়াই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য নাহ। তার লড়াই তাদেরকে কাছে আনার, সমতা বিধানের জন্য।
আমার কান্না পেয়েছে, মুভিটির প্রত্যেকটা কথা কাজ মনের অজান্তেই আমার নিজের দেশের সাথে তুলানা করে ফেলেছি বলে। আফ্রিকা জম্ম নিয়েছে, কত গুলো ভিন্ন রঙের মানুষকে নিয়ে, হাজার ভাষা, হাজার ধরনের মানুষ, হাজার ধরনের সাংকৃতির মধ্যে। ম্যান্ডেলা একাই সবাইকে একি পতাকার নিছে এনেছে, সবাইকে ভাবতে শিখিয়েছে, আমরা আফ্রিকান। আমাদের ভাগ্যে কি হল? আমরা একি পতাকার জন্য যুদ্ধ করেছি, একই ভাষাই কথা বলার জন্য লড়াই করেছি, একই সাংকৃতি নিয়ে বেচে আছি আমরা। আর আমাদের নেতারা কি করতেছেন?? জম্মের শুরু থেকেই ওনারা আমদের বিভাজন করার কাজে ব্যাস্ত। আজকে পুরা দেশ বিভক্ত। এই বিভাজন অনেক ক্ষেত্রে কালো সাদাদের বিভাজনকে ও ছাড়িয়ে গেছে। মেন্ডালা নিজে নিজে একাই সবার সাথে যুদ্ধ করেছেন, আর আমাদের আজকের নেতারা কিছু সংখ্যক দুর্নীতি পরায়ন নেতা আমলার সাথে যুদ্ধ্য করতে পারে না, যদিও পুরা দেশের জনগন তাদের সাথে যুদ্ধ করবে, তাদেরকে সমর্থন দিবে।
আমি অনেক আশাবাদি মানুষ। আমি মনে করি, একদিন আমারাও পারব, কোন এক ম্যান্ডেলা হয়ত আমাদের দেশেও আসবে। আক্ষেপ শুধু, আমাদের অনেক দেরিতে হবে হয়তবা, যদিও আমাদেরকেই সবার আগে এগিয়ে যাওয়া দরকার ছিল।
“I am the master of my fate. I am the captain of my soul”